ফটোগ্রাফিত আগ্রহ বাড়ছ পাহাড়ের তরুণদের
সৃষ্টিতে সুখলাভ করা যায় এমন কতগুলো কাজ আছে যেখানে মানুষ কম খেয়েপরেও সুখে থাকতে পারে, জীবনকে বৈচিত্র্যময় করে তুলতে পারে, তেমন একটি কাজ হচ্ছে ফটোগ্রাফি। কাজের আনন্দ থাকে বলেই অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা যুগোপযোগী পেশা ছেড়ে ফটোগ্রাফিতেই ঝুঁকছে। শখ থেকে নেশা, নেশা থেকে পেশা। বর্তমান সময়ে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি এখন একটি সৌখিন শিল্প । মূলত ডিএসএলআর ক্যামেরা এখন সহজ লভ্য হওয়ায় প্রায় সবার হাতেই এই ক্যামেরা দেখা যাচ্ছে। আবার অনেকেই ভালোমানের মুঠোফোন দিয়েও শুরু করছেন সৌখিন এই নেশা। পাহাড়ের তরুণরাও কোনঅংশে পিছিয়ে নেই এই শিল্প থেকে। এদের কেউ কেউ ইতিমধ্যেই উইডিং, ফ্যাশন, কাপল, সিংগ্যাল ও প্রাকৃতিক ফটোশ্যূাট করে পড়াশোনার পাশাপাশি অর্থ উর্পাজন করছে। তাদের কেউ কেউ ফটোগ্রাফির উপর প্রশিক্ষণ নিয়েই ছবি তুলছে আবার কেউবা নিজে থেকে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ছবি তুলে যাচ্ছে।
পাহাড়ের এসব উদীয়মান ফটোগ্রাফারদের একজন বর্ষণ। পুরো নাম নান্টু চাকমা বর্ষণ। কাকার ক্যামেরা দিয়েই ফটোগ্রাফিতে হাতেখড়ি তার। নিজের তোলা ছবি দিয়েই ঝুলিতে ভরেছেন বেশ কয়েকটি পুরস্কার। যমুনা টেলিভিশনের জনপ্রিয় শো ‘সকালের বাংলাদেশে’ ছবি পাঠিয়ে হয়েছেন পর পর দুবার মাস সেরা ছবি বিজয়ী। বর্ষণ বর্তমানে রাঙামাটি সরকারি কলেজে ইংরেজীতে মার্স্টাসে পড়ছেন। আলাপে তিনি বলেন,‘ ফটোগ্রাফিতে ক্যারিয়ার গড়বো এমন ইচ্ছা আমার নেই। ফটোগ্রাফি আমার শখ, এই শখটাই আমার জীবনের সাথে মিশে গিয়েছে।”
পাহাড়ের আরেক পরিচিত মুখ আতাহার মাসুম। আতাহারের ফটোগ্রাফার হয়ে উঠার গল্পটা একটু অন্যরকম। জানালেন, বাবা সাংবাদিক হওয়ায় শৈশব থেকেই ক্যামেরার সাথে খুনসুটিঁ তার। এরপর সময়ের ব্যবধানে ফটোগ্রাফির প্রেমে পড়া। মা-বাবার কাছে আবদার করে পেয়ে যান ক্যামেরা। এরপর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। তার তোলা স্যেশিয়াল ব্যারিয়ার নামক ছবি ইতিমধ্যে সিঙ্গাপুরের এস.এন ন্যাশনাল কো-অপ ফেডারেশন আয়োজিত প্রতিযোগিতায় ৩য় হয়েছে। তার তোলা ছবি বিভিন্ন প্রদশর্নীতে বিচারকদের চোখে সেরা হয়েছে। আতাহার বলেন,‘ আমি ইউটিউব থেকে ফটোগ্রাফির উপর বিভিন্ন ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখে দেখে বেসিকটা শিখেছি। শুরুটা শখের বসে হলেও এখন এটিকে আমি প্রফেশনালি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভবিষ্যতে ফটোগ্রাফি নিয়ে পড়াশোনা করতে চাই।”
বর্ষণ, আতাহারের মতো অপরুপ তঞ্চংগ্যা পলাশও ফটোগ্রাফার হওয়ার শখ শৈশব থেকেই বুনেছেন। সময়ের ব্যবধানে ছবি তোলাটা হয়ে গেছে তার নেশা। এভাবেই ফটোগ্রাফিতে যাত্রা শুরু তার। রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় জন্ম অপরুপের। বর্তমানে রাঙামাটি সরকারি কলেজে উদ্ভিদবিজ্ঞান ৪র্থ বর্ষে পড়ছেন। অপরুপ জানান,“ শখ থেকে ক্যামেরা কিনলেও এখন এটি নেশায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে আমি আর আমার ছোট ভাই মিলে টইংগাঙ নামে একটি ফটোগ্রাফিক ইভেন্ট খুলেছি,যেখানে আমরা তংঞ্চগ্যা সংস্কৃতিকে স্থিরচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।”
রাজবাড়ী এলাকার আরেক তরুণ ফটোগ্রাফার শাহীন। প্রথমদিকে সে বন্ধুগ্রাফি করতো, মানে শুধু বন্ধুদেরই ছবি তুলতো। তবে এখন সে বিভিন্ন ইভেন্টেও ছবি তুলে। মুঠোফোনে সে বলে, ‘স্কুলে পড়ার সময় মোবাইলে ছবি তুলে একটু এডিট করে ফেইসবুকে আপলোড করতাম, তখন আমার সেই ছবি গুলোতে বন্ধুদের ভালো ভালো কমেন্ট দেখে ছবি তোলার প্রতি আগ্রহ জন্মায়। কলেজে উঠার পর বন্ধুরা মিলে টাকা জমিয়ে ডিএসএলআর কিনেছি।’
দৈনিক পার্বত্যচট্টগ্রামের সাথে কথা হয় আরও এক তরুণ ফটোগ্রাফার সঞ্জয় মিত্র তংঞ্চগ্যার সাথে। তিনি জানান,“শখের বসে ক্যামেরা নিয়েছিলাম। কিন্তুু ছবি তোলা টা এখন নেশাতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান আমি পড়াশোনার পাশাপাশি হিল ভ্যালি প্রোডাকশন নামের একটি ফটোগ্রাফিক ফার্মে কাজ করছি। শুরুর দিকে তেমন সাড়া না পেলেও এখন নিয়মিতই বিভিন্ন ইভেন্টে ছবি তোলার জন্য ফোন আসে”।
বর্ষণ,অপরুপ,সঞ্জয়, আতাহার কিংবা শাহীনের মত এমন আরও অনেক তরুণই শখের বসে ঝুকঁছে এই পেশাতে। পাহাড়ের এসব তরুন ফটোগ্রাফারদের জন্য এখন প্রয়োজন পৃষ্টপোষক ও বেশি বেশি এক্সিবিশন।
ফটোগ্রাফিতে তরুণদের আগ্রহ ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয় পাহাড়ের পেশাদার তরুণ আলোকচিত্রী সমির মল্লিকের সাথে। তিনি জানান, ‘আজকাল যেসব তরুণ শখের বসে ফটোগ্রাফি করছেন, তাদের অধিকাংশই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বন্ধুদের দেখানোর জন্যই ছবি তুলছেন। কিন্তুু এটি ঠিক নয়। প্রতিটি ছবির পিছনেই একেকটি গল্প থাকে। ফটোগ্রাফিকে অবশ্যই শিল্প হিসেবে নিতে হবে।’ তরুণদের জন্য আপনার পরামর্শ কী এমন প্রশ্নের উত্তরে সমির বলেন,‘ মোহর চেয়ে ডেডিকেশনটাই বেশি থাকতে হবে। আর অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে। নানা ধরনের ফটোগ্রাফি আছে। বিশেষ করে আপনি যে ধরনের ফটোগ্রাফি করবেন,সেই বিষয়েই কোর্স করতে হবে’।


nice Writing..
উত্তরমুছুন