অভাবের সংসারেও থাকে পূজোর আমেজ
বেশ কদিন ধরেই রাহুলের ঘুম হয় না। প্রতিরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়। তারপর বাকীরাত কিযেন কী ভেবে কাটিয়ে দেয়। রাহুলরা তিন ভাই-বোন। সবার বড় সে। রাহুল ক্লাস টেনে পড়ার সময় তার বাবা সমরজিৎ স্বর্গীয় হয়েছেন। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরার চেষ্টায় দিনমুজুর থেকে মুদির দোকানের সহকারী-হেল্পার হয়ে এখন টেক্সির স্টিয়ারিং ধরেছে সে। মা বিন্দু রানী বাসা থেকে খানিক দুরে এক বাড়িতে কাজ করেন অবশ্য। তবুও বাসার সবাইকে তাকিয়ে থাকতে হয় তার পকেটের দিকেই।
মাস পেরোলেই শুরু হবে দুর্গা পূজা। নতুন পোশাক কিনতে হবে ভাই-বোন দের জন্য; সঙ্গে মায়ের জন্যও একটা শাড়ি। মেলা খরচের আয়োজন পূজোর মাসে। বাজেট মেনে চলা সংসারে একজনের উপার্জনে সবার কেনাকাটা!- ঘুমানোর আগে-পরে প্রায়শই এসব ভাবনায় নিমজ্জিত থাকে রাহুল।
পূজো যতই ঘনিয়ে আসছে তার এই চিন্তা ক্রমশই বাড়ছে। প্রতিদিন গাড়ি নিয়ে বের হবার সময় ছোট ভাই-বোনদের আবদারের স্বরও বাড়ছে একই হারে। এবারের পূজোয় দুই ভাইকে শার্ট-প্যান্টের সাথে একটা ব্যাটারি চালিত গাড়িও কিনে দেওয়া চাই! আর বোনের জন্য জামার সাথে আনতে হবে লাল রেশমি চুঁিড়। রাহুল নিশ্চুপ থাকে। তার ছোট ভাই-বোনরা হয়তো বুঝে না; নতুন জামা কেনার সার্মথ্য যে তার বড় ভাইয়ের নেই।
তবুও চেষ্টার কোন কমতি রাখবে না সে। ভাই-বোনদের আবদার মেটানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রাহুল। পূজোর বাকী আর মাত্র চারদিন। রাতে আর বাড়ি ফিরছে না এখন সে। টাকা জোগাড় করতেই ব্যস্ত। রাতেও গাড়ির স্টিয়ারিং ছাড়ে না। একটাই সংকল্প; যেভাবেই হোক তাদের মুখে হাসিঁ ফুটাতেই হবে।
অবশেষে পূজো আসলো। পরিবারের সবার গায়ে নতুন পোশাক। বোনের হাতে লাল চুড়িঁ। বান্ধবীদের সাথে এ মন্ডপ ও-মন্ডপ ঘুরে বেড়াচ্ছে ও। ভাইদের হাতেও ব্যাটারি চালিত গাড়ি। তারাও হাসি-খুশি খেলছে। কিন্তু রাহুলের কাছে পূজোর এই দিনটার যেনো কোন অর্থই নেই! মনেই নেই নিজের জন্য কিছু কেনার কথা। পরিবারের সবার মুখের হাসিই যেন তার কাছে আজ মূখ্য বিষয়।
এতো বললাম পিতৃহারা সংগ্রামমূখর এক রাহুলের কথা। এরকম হাজারো রাহুলরা ছড়িয়ে আছে আমাদের আশে পাশেই। এভাবেই আত্মজদের আবদার মিটিয়ে; তাদের মুখে প্রশান্তির হাসি ফুটিঁয়েই পূজো কাটায় তারা। পারিবারিক দায়িত্ববোধ থেকে হোক কিংবা সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই হোক পূজো আসলে তারাও ভীড় জমায় মার্কেটগুলোতে। হয়তো কেনাকাটার জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয় একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। কখনও সেই সময় গড়ায় পূজোর শেষ দিন অবদি। তবুও এতো এতো অভাব অনটনের পরেও শান্তি থাকে রাহুলদের পরিবারগুলোতে। থাকে শ্রদ্ধা। থাকে ভালোবাসা। তাদের কেনা পোশাকের মূল্যে হয়তো কম; কিন্তুু পরিবারের সম্পর্ক গুলো থাকে মহামূল্যবান।
লেখক : সংগঠক ও তরুণ সংবাদকর্মী।
মাস পেরোলেই শুরু হবে দুর্গা পূজা। নতুন পোশাক কিনতে হবে ভাই-বোন দের জন্য; সঙ্গে মায়ের জন্যও একটা শাড়ি। মেলা খরচের আয়োজন পূজোর মাসে। বাজেট মেনে চলা সংসারে একজনের উপার্জনে সবার কেনাকাটা!- ঘুমানোর আগে-পরে প্রায়শই এসব ভাবনায় নিমজ্জিত থাকে রাহুল।
পূজো যতই ঘনিয়ে আসছে তার এই চিন্তা ক্রমশই বাড়ছে। প্রতিদিন গাড়ি নিয়ে বের হবার সময় ছোট ভাই-বোনদের আবদারের স্বরও বাড়ছে একই হারে। এবারের পূজোয় দুই ভাইকে শার্ট-প্যান্টের সাথে একটা ব্যাটারি চালিত গাড়িও কিনে দেওয়া চাই! আর বোনের জন্য জামার সাথে আনতে হবে লাল রেশমি চুঁিড়। রাহুল নিশ্চুপ থাকে। তার ছোট ভাই-বোনরা হয়তো বুঝে না; নতুন জামা কেনার সার্মথ্য যে তার বড় ভাইয়ের নেই।
তবুও চেষ্টার কোন কমতি রাখবে না সে। ভাই-বোনদের আবদার মেটানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রাহুল। পূজোর বাকী আর মাত্র চারদিন। রাতে আর বাড়ি ফিরছে না এখন সে। টাকা জোগাড় করতেই ব্যস্ত। রাতেও গাড়ির স্টিয়ারিং ছাড়ে না। একটাই সংকল্প; যেভাবেই হোক তাদের মুখে হাসিঁ ফুটাতেই হবে।
অবশেষে পূজো আসলো। পরিবারের সবার গায়ে নতুন পোশাক। বোনের হাতে লাল চুড়িঁ। বান্ধবীদের সাথে এ মন্ডপ ও-মন্ডপ ঘুরে বেড়াচ্ছে ও। ভাইদের হাতেও ব্যাটারি চালিত গাড়ি। তারাও হাসি-খুশি খেলছে। কিন্তু রাহুলের কাছে পূজোর এই দিনটার যেনো কোন অর্থই নেই! মনেই নেই নিজের জন্য কিছু কেনার কথা। পরিবারের সবার মুখের হাসিই যেন তার কাছে আজ মূখ্য বিষয়।
এতো বললাম পিতৃহারা সংগ্রামমূখর এক রাহুলের কথা। এরকম হাজারো রাহুলরা ছড়িয়ে আছে আমাদের আশে পাশেই। এভাবেই আত্মজদের আবদার মিটিয়ে; তাদের মুখে প্রশান্তির হাসি ফুটিঁয়েই পূজো কাটায় তারা। পারিবারিক দায়িত্ববোধ থেকে হোক কিংবা সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই হোক পূজো আসলে তারাও ভীড় জমায় মার্কেটগুলোতে। হয়তো কেনাকাটার জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয় একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। কখনও সেই সময় গড়ায় পূজোর শেষ দিন অবদি। তবুও এতো এতো অভাব অনটনের পরেও শান্তি থাকে রাহুলদের পরিবারগুলোতে। থাকে শ্রদ্ধা। থাকে ভালোবাসা। তাদের কেনা পোশাকের মূল্যে হয়তো কম; কিন্তুু পরিবারের সম্পর্ক গুলো থাকে মহামূল্যবান।
লেখক : সংগঠক ও তরুণ সংবাদকর্মী।


কোন মন্তব্য নেই